আড়াইহাজার সংবাদদাতা
আড়াইহাজারে আফসানা (২২) নামে এক গৃহবধূকে তার স্বামী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে স্বামীর পরিবার। সোমবার (২৩ জানুয়ারি)এ ঘটনার পর থেকে স্বামী আলী হোসেন (২৮) সহ তার পরিবারের সকলে বাড়িঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছে। নিহত আফসানা উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের মনোহরদী গ্রামের প্রবাসী খোকন ভূঁইয়ার মেয়ে এবং একই ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী মোক্তারের ছেলে আলী হোসেনের স্ত্রী। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সোমবার সকালে আফসানার চাচাতো দাদি মারা যান। মৃত নানিকে দেখতে যেতে বায়না ধরে আফসানা। কিন্তু স্বামী আলী হোসেন তাকে সেখানে যেতে বাধা দেয়। এ নিয়ে ঝগড়া করে আলী হোসেন তাকে মারধর করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরের ধন্নার সাথে এক টুকরো ছেড়া গামছা দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। নিহত আফসানার খালা পারুল আক্তার সাংবাদিকদেরকে কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আলী হোসেন আমার ভাগনিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। নির্যাতনের কারণে আমার ভাগনির পরনের কাপড় ছিড়ে যায় এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, পুলিশ এবং আমরা লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাইনি। লাশ ঘরের মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় ছিল। নিহত আফসানা এক কন্যা সন্তানের জননী। নিহতের মা কুলসুম আক্তার জানান, আমি থানায় গিয়ে জানাই যে, আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশ একটি দরখাস্ত লিখে দরখাস্তের বক্তব্য পড়ে না শুনিয়েই তাতে আমার স্বাক্ষর নেয়। আমি ভেবেছিলাম পুলিশ হত্যা মামলার এজাহারে আমার স্বাক্ষর নিয়েছে। কিন্তু পরে দেখি যে, পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা লিখে তাতে আমার স্বাক্ষর নিয়ে হত্যা মামলার স্থলে অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে আদালতের স্মরণাপন্ন হবেন বলেও জানান। আড়াইহাজার থানার ওসি আজিজুল হক হাওলাদার নিহতের পরিবারে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা লিখে বাদিকে পড়ে শুনিয়েই স্বাক্ষর নিয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যা প্রমাণিত হলে পরে তা হত্যা মামলায় রূপ নিবে।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।